Postpartum depression / baby blues ভয়াবহ একটা ব্যাপার

লিখেছেন: Nuria Rabby Sabah

Postpartum depression /baby blues – ভয়াবহ একটা ব্যাপার। আমার ডাক্তারের মতে বেবি ডেলিভারির পরে প্রায় ৯০% মা এই ডিপ্রেশনে ভুগেন। আমি জানি কারো প্রেগ্ন্যান্সির কথা শুনলে আমরা শুধু তাকে পজিটিভ কথা বলি। কিন্তু আমি পার্সোনালি ফিল করেছি যে আমাকে যদি কেউ আগেই এই ব্যাপারে আইডিয়া দিত তাহলে আমার জন্য কিছুটা সহজ হত এই ডিপ্রেশন হ্যান্ডেল করা (যদিও এইটা বলা সম্ভব না যে কার কিসে ডিপ্রেশন হবে)। এজন্যই ভাবলাম বিষয়টা নিয়ে একটু লিখি। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মেয়েরাই এই ডিপ্রেশনে ভুগলেও কারো সাথে শেয়ার করতে পারেনা কারন আশেপাশে মানুষ বসেই থাকে কথা শুনানোর জন্য, লজ্জা দেয়ার জন্য। এভাবে করে একটা মেয়ে মা হবার পরে অনেক বেশি লোনলিনেসে ভুগে, দাম্পত্য জিবনেও সেটার এফেক্ট পরে এবং মা যদি মানষিক ভাবে সুস্থ না থাকে তাহলে শিশুর ও ক্ষতি হবার সুযোগ থাকে।

যেভাবে আমরা একজন নতুন মা কে এই ডিপ্রেশন এর দিকে ঠেলে দেওয়া থেকে আর ডিপ্রেশন থেকে বের হয়ে আসতে হেল্প করতে পারি:

১. বেবি হওয়ার পরে শুধু বেবি টাকে নিয়ে এক্সাইটেড হবেন না। মা কেমন আছে,তার কিছু লাগবে কিনা সেটারও খেয়াল রাখবেন।

২. নতুন মায়ের আশেপাশে যেই আত্মিয় স্বজন রা থাকবেন তারা মা টা কে প্রচুর রেস্ট নিতে সাহায্য করুন। হাসব্যান্ড ওয়াইফ কে একটু একসাথে সময় কাটাতে দিন।

৩. যদি বিদেশে শুধু হাসব্যান্ড আর ওয়াইফ থাকেন তাহলে প্লিজ হাসব্যান্ড রা বলবেন না যে এত ছোট বাচ্চা কোলে নিতে পারিনা। আপনার ওয়াইফ এর জন্যেও কিন্তু এটা নতুন এক্সপেরিয়েন্স। যতটুকু পসিবল দুই’জন মিলে লোড টা শেয়ার করে নিবেন।বাসার কাজে ওয়াইফ কে হেল্প করবেন। তাহলে দু’জনের সম্পর্ক এবং আন্ডারস্টেন্ডিং আরো মজবুত হবে। বাচ্চা কে রাখার বিষয়ে একজনের উপরে প্রেশার পরবে না।

৪. কেউ নতুন মা মে বলা শুরু করবেন না যে আপনারা ৮টা ১০টা বাচ্চা পেলে এসেছেন, আপনাদের কষ্ট হয়নি বা ডিপ্রেশন হয়নি। আপনার শরীর আপনার, আপনার মানসিক এবং শারিরিক শক্তি আপনার, আপনার সিচ্যুয়েশন ও আপনার। কারো সাথে কারো টা কম্পেয়ার করা উচিত না।

৫. কারো বাচ্চা দেখতে যেয়েই নজর লাগবে,অমুক করলে জ্বিন ভুত ধরবে এইসব ফালতু কথা বলে নতুন বাবা মা কে আরো দুশ্চিন্তায় ফেলবেন না। সুন্দর করে বুঝিয়ে বলবেন কি কি দোয়া পরলে বা ধর্মিয়ে কাজ করলে বাচ্চার জন্য উপকার হবে।

৬. শুধু নামাজ পর,আল্লাহ কে ডাক তাহলে সব ডিপ্রেশন চলে যাবে এইসব বলবেন না। বরং এটা বলতে পারেন যে, ধর্মিয়ে কাজগুলো করলে কিছুটা প্রশান্তি পেতে পার। (এবং সত্যিই শান্তি পাওয়া যায়)।

৭. বাচ্চা দেখতে যেয়ে বাচ্চার ক্ষুত বের করে কিছু বলবেন না।যার যার সন্তান তার কাছে সুন্দর। আপনি যদি বাচ্চার ক্ষুত ধরা শুরু করেন তাহলে বাচ্চার কোনো একটা কিছু নিয়ে যদি বাবা বা মায়ের মনে কষ্ট থাকে সেটা অনেক বেড়ে যেতে পারে।

৮. নতুন মা কে বলতে থাকবেন না যে মোটা হয়ে গিয়েছ,যাচ্ছ বা চেহারা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এটা সবাই জানে যে একটা প্রেগন্যান্সি মানে একটা মেয়ের শরিরের উপর দিয়ে কত বড় একটা ধাক্কা যায়। একটা বাচ্চার পিছনে অনেক শ্রম দিতে হয়,তারপর যদি আবার বাসার কাজ অথবা অফিসিয়াল কাজ মেইনটেইন করা লাগে তাহলে এটলিস্ট এক থেকে দেড় বছর কঠিন হয়ে যায় মায়ের নিজের দিকে তাকানো।

৯. একটা মা ব্রেস্টফিড করতে পারছে না দেখে তাকে বারবার বলতে থাকবেন না যে ফর্মুলা মিল্ক দিলে সেটা খারাপ। যদি বুদ্ধিমান হয়ে থাকেন তাহলে নিজেই বুঝে নিবেন যে কোনো মা’ই তার সন্তান কে সবচেয়ে খাটি জিনিসটা দাওয়া থেকে কোনদিনই বঞ্চিত করবে না।

১০. আমার দেখা ৮০-৯০% মানুষ সন্তান হবার পরে দাম্পত্য জিবনে একটা মেন্টাল ক্রাইসিস দিয়ে গিয়েছে। এরকম সিচ্যুয়েশনে হাসব্যান্ড রা অনেক সময় বুঝতে পারেনা কি করলে ওয়াইফের জন্য ভালো হবে। সেই ক্ষেত্রে হাসব্যান্ড টাকে ভালো আইডিয়া দিবেন এবং ওয়াইফ কেও বুঝাবেন যে দু’জনের জন্যেই নতুন এক্সপেরিয়েন্স তাই কিছুটা সময় লাগবে আবার রিলেশনশিপ আগের মত হতে। নেগেটিভ কোনো কথা বলে তাদের সম্পর্ক আরো খারাপ করবেন না।শুধু একজনকেই ধৈর্য ধরতে বলবেন না।দু’জন কেই দু’জনের সাথে বেশি টাইম স্পেন্ড করার কথা বলবেন।

১১. নতুন মা দের কিসের থেকে ডিপ্রেশন শুরু হবে এটা বলা সম্ভব না।।তাই যদি সত্যিই ওয়েল উইশার হয়ে থাকেন তাহলে মা টা কিছু শেয়ার করলে সেটা আপনার কাছে ফানি লাগ্লেও আপনি মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করবেন।

১২. বারবার বলবেন না ‘মাদারহুড এঞ্জয় কর’ অথবা ‘এত ফুটফুটে একটা বাচ্চা তাও ডিপ্রেশন কিসের তোমার?’। মাদারহুড সবাই এঞ্জয় করে,প্রত্যেক মায়ের কাছে তার সন্তান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস। কিন্তু একই কাজ সারাক্ষন করতে থাকা টা অবশ্যই আনন্দের না।একটু ব্রেক নিলে আবার নতুন উদ্যমে সব করা যায়। এটাও সত্যি যে বাচ্চা কে সুন্দর ভাবে যত্ন করার জন্য মায়ের মানষিক এবং শারিরিক ভাবে সুস্থ থাকাটা সবচেয়ে জরুরি।

১৩. কোনো মা অতিরিক্ত ডিপ্রেশনে ভুগ্লে অবশ্যই তাকে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এর সাথে দেখা করার পরামর্শ দিন।এখানে লজ্জার কিছু নেই।

১৪. একটা মা অবশ্যই সন্তান এর সাথে টাইম স্পেন্ড করতে পছন্দ করে,কিন্তু সে তার পুরোনো লাইফ টাও মিস করবে এটাই খুব স্বাভাবিক। তাই সে যদি বলে যে আগের লাইফ টা মিস করছে তাহলে সাথে সাথে বলবেন না যে ‘অনেক লাইফ এঞ্জয় করেছ,এখন বাচ্চার দিকে মনোযোগ দাও’. বরং তাকে এটা বলবেন যে,পুরোনো লাইফ সবারই মনে পরবে এটাই স্বাভাবিক। সামনে আবারো সুন্দর সময় আসবে যখন বেবি কে নিয়েই এঞ্জয় করতে পারবে।

১৫. বাচ্চা পালার ক্ষেত্রে মা কি ভূল করছে সেটা নেগেটিভ সাইড হিসেবে দেখানো আপনার আমার দায়িত্ব না। সবাই সবকিছু শিখে আসেনা। সুতরাং কোনো ভুল দেখলে বুঝিয়ে বলবেন কি কি করলে বাচ্চার জন্য আরো ভালো হবে।আর তাছাড়া যার যার প্যারেন্টিং এর way আলাদা হবে এটাই নরমাল।

১৬. নতুন মা দের কে সাহস দিবেন,প্রশংসা করবেন এবং উৎসাহ দিবেন যেন তারা আরো ভালোভাবে,প্রবল মনবল নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

১৭. নতুন মা হলে একটা অদ্ভুত লোনলিনেস ভর করে। একজন ওয়েল উইশার,লাইফ পার্টনার অথবা আত্মিয় হিসেবে চেষ্টা করবেন তাকে আনন্দ দিতে এবং ফিল করাতে যে সে একা না।

১৮. যদি একজন নতুন মা আপনার ফোন না ধরতে পারে,ম্যাসেজের রিপ্লাই না দিতে পারে,আপনার সাথে দেখা করতে না পারে তাহলে এগুলো নিয়ে রাগ করে বসে থাকবেন না। একটা বাচ্চা কখন খাবে,কখন ঘুমাবে,কখন কি করবে তার কোনকিছুই ঠিক থাকেনা এবং সারাদিনের কোন সময়ে মা নিজের জন্য একটু সময় বের করে রেস্ট নিতে পারবে সেটাও অনিশ্চিত তাই মা রা চাইলেও অনেক সময় পারেনা অনেক কিছু করতে।

১৯.একজনের বাচ্চার সাথে আরেকজনের বাচ্চা কম্পেয়ার করবেন না। অথবা এক মায়ের সাথে আরেক মায়ের কম্পেয়ার করবেন না। প্রতিটা মানুষ আলাদা হয়।

অনেক কিছু লিখে ফেলেছি। কারন আমি জানি এমন অনেক নতুন মা আছে যারা এই ডিপ্রেশন দিয়ে যাচ্ছে বা গিয়েছে কিন্তু কারো সাথে শেয়ার করতে পারেনি বা পারছেনা। তাদের কে বলতে চাই ‘you are not alone, you are doing a great job. Take a very good care of yourself and if you feel lonely then share your pain with someone reliable, who will not judge you 🙂’. আল্লাহ সবাই কে সুন্দর ভাবে সন্তান বড় করার শক্তি,সাহস এবং সামর্থ্য দিক ❤️

 

 লিখেছেন: Nuria Rabby Sabah

More Stories
VLOG 23 | ইদের তৃতীয় দিন আমরা কী করলাম | Bangla Vibes
VLOG 23 | ইদের তৃতীয় দিন আমরা কী করলাম | Bangla Vibes