ছেলেমেয়েদের প্রযুক্তি নির্ভরতা এবং বুদ্ধিমত্তা লোপ প্রসঙ্গে

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে নানা রকম মন্তব্য উঠে এসেছে। বিষয়টা নিয়ে আমিও ভাবার চেষ্টা করেছি। আজ এ সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। হ্যাঁ, আপনি যদি চারপাশে তাকান তাহলে দেখবেন নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তি নির্ভর। এটা কিন্তু খুবই ন্যাচারাল। ২০/৩০ বছর আগে আপনি যেভাবে চিন্তা করতেন এখন ছেলে মেয়েরা সেভাবে চিন্তা করে না। কারণ তাদের অভিজ্ঞতা আপনার চেয়ে কম হতে পারে কিন্তু আলাদা। অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে সবকিছু পরিমাপ করা সম্ভব নয়। আপনি বলতেই পারেন, বুদ্ধিমত্তা না কমালেও প্রযুক্তি আমাদের অলস করে দিচ্ছে-এ ব্যপারে নিশ্চিত। ভাল কথা। আমরা এখন প্রযুক্তি নির্ভর। সহজে কম সময়ে কাজ শেষ করছি, বাকী সময়টা আড্ডা মেরে কাটাচ্ছি।

না, আড্ডা মারছি না, হয়তো গুগলে সার্চ করে উইকিপিডিয়াতে ফোর্থ ডাইমেনশন নিয়ে পড়ে আছি, নয়তো বন্ধুর সাথে গুরুত্বপূর্ণ ডিসকাশন করছি ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং এর মাধ্যমে। কিন্তু আপনি বলবেন অলস হয়ে বসে বসে স্মার্টফোন ঘাঁটছি। হ্যাঁ, অভিভাবকরা এভাবেই বলেন এবং ভাবেন। এর মানে এই নয় যে সত্যি সত্যি আমাদের বর্তমান প্রজন্ম অলস। কখনই না। অভিভাবকরা আরও বলেন এবং ভাবেন, বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাশক্তি কমে যাচ্ছে। তারা সহজে সবকিছুর সমাধান পেয়ে যাচ্ছে বিধায় চিন্তা করতে হচ্ছে কম। ভুল কথা।

বর্তমান প্রযুক্তি আমাদের এত বেশি কিছু দিয়েছে যে- আমরা চিন্তা করতে গেলে কূলকিনারা পাই না। চিন্তা করার এতো কিছু এখন! আমার তো মনে হয়- বর্তমান প্রজন্ম সবসময় চিন্তার মধ্যে ডুবে থাকে। অভিভাবকরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে আমার লেখা পড়বেন। আপনারা ভাবতে পারেন, ক্যালকুলেটর, স্মার্টফোন থাকাতে এখন ছেলেমেয়েরা জটিল হিসাব-নিকাশগুলো চিন্তা ছাড়াই করে ফেলতে পারছে। মস্তিষ্কের প্রয়োগ কম হওয়াতে তাদের বুদ্ধির বিকাশ হচ্ছে না। আরও একটি ভুল। হ্যা, ক্যালকুলেটর আর ফোন থাকাতে এখন আর বড় বড় সংখ্যার হিসাব মনে মনে করতে হয় না, মনে রাখতে হয় না কোন বড় সংখ্যা। এর মানে এই নয় যে ছেলেমেয়েরা তাদের মস্তিষ্ক ব্যবহার করছে না। এটা প্রযুক্তির আশীর্বাদ যে এখন তারা এগুলোর ব্যবহার করতে পারছে এবং অন্য কোনো জটিল বিষয়ে মাথা খাটাতে পারছে। যেটা আগে (আপনাদের সময়) সম্ভব ছিল না। প্রযুক্তির ব্যবহার না করলে এখন আমরা বিশ্বকে যেমনটা দেখছি তেমনটা পেতাম না। জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে। (ছোট বয়সে অবশ্যই মনে মনে হিসেব করা শিখতে হবে, এটা বেসিক)।

আচ্ছা, একটা মানুষের জীবনের আলটিমেট লক্ষ্যটা কী? মানুষ কেন এতো কষ্ট করছে, পড়াশোনা করছে, কাজ করছে, কেনো? উত্তর: হ্যাপিনেস। সুখী হতে চায় মানুষ, সেটা যেভাবেই হোক। আরাম-আয়েশ-সুখ এগুলোরও আবার রয়েছে অনেকগুলো ক্যাটাগরি। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সুখের পেছনে ছুটছে। বর্তমান প্রযুক্তির ব্যবহার যারা করছে তারা সুখী।

আগের লাইনের কথাটা সম্পূর্ণ সত্যি নয়। মানুষ সুখী নয় বলেই নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিস্কার করছে সে অভাব মেটানোর জন্য। আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন অল্প বয়স থেকে প্রোগ্রামিং শিখছে, কিশোর বয়সে দক্ষ প্রোগ্রামার হচ্ছে। আগে এমনটা চিন্তা করা যেত কি? তারপরেও কি বলবেন বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অলস এবং ডাম্ব হয়ে যাচ্ছে? নতুন কিছু পেলে একটা পর্যায় পর্যন্ত মানুষ সেটা ভোগ করবে অথবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। এটা মানুষের একটা স্বভাব। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের দেশে ইন্টারনেট সবার কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর আমরা এর অনেক অপব্যবহার করেছি। আমি বিশ্বাস করি যারা ১০ বছর আগে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার করেননি এখন তারা কর্মক্ষেত্রে ও গঠনমূলক কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

প্রযুক্তি আমাদের দিয়েছে অফুরন্ত তথ্যের ভান্ডার। আমরা চাইলে এখন যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করে সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি। এটা করতে প্রয়োজন কেবলমাত্র একটি স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ। ৫০ বছর আগে যারা ছিলেন তাদের তুলনায় এখনকার মানুষ বেশি স্মার্ট এবং জ্ঞানী। জ্ঞানী হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা প্রযুক্তির। প্রযুক্তি কেনোভাবেই একজন মানুষের বুদ্ধিমত্তা লোপ করতে পারে না বরং ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় বুদ্ধিকে বিকশিত করে। বিশ্বায়নকে সহজ করেছে প্রযুক্তি। সত্যি কথা বলতে বিশ্বায়নের মূল চালিকাশক্তি এই প্রযুক্তি। মিডিয়ার কারণে মানুষ প্রযুক্তির খারাপ দিকগুলো বেশি বেশি জানছে। এবং অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বিভ্রান্ত করছে। কাজটা ঠিক না। মিডিয়ার উচিত হবে নতুন-পুরান সবাইকে প্রযুক্তির সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়া। এখন কথাটি শুনতে খারাপ লাগলেও অদূর ভবিষ্যতে এর সত্যতা উপলব্ধি করতে পারবো আমরা।

More Stories
Arora Opening A New Toy - Style Girls Doll | Bangla Vibes
Arora Opening A New Toy – Style Girls Doll | Bangla Vibes