RobinsHQ is Now Bangla Vibes. CLICK to SUBSCRIBE

দুই: মহাবিশ্বের সৃষ্টি

মুমিন ভাই আমাকে মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিয়ে লেকচার দিচ্ছেন। দু’জন একসাথে লাঞ্চ করছি, মুমিন ভাই বলে যাচ্ছেন আমি শুনছি। বিগব্যাঙ এর কারণ ব্যাখ্যা করছেন তিনি। খাওয়ার পর্ব শেষ হল। লেকচার চলছে। টঙ এর রঙ চা আর সিগারেট নিয়ে বসলেন মুমিন ভাই। এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির আদিতে একটি বিন্দু সমতূল্য সারফেসে ঘনীভূত অবস্থায় ছিল। সে অবস্থাটার নাম “সিঙ্গুলারিটি”। আমি একমনে শুনছি। এবার তিনি আমাকে সিঙ্গুলারিটি বুঝাতে লাগলেন।

সকল শক্তি একসাথে পুঞ্জীভূত অবস্থায় একটি বিন্দুতে আবদ্ধ। সেখানে কোনো সময়ের অনুভূতি নেই, স্থান নেই। সহজভাবে বলতে গেলে শূন্য। বিগব্যাঙ এর ফলে সকল আবদ্ধ শক্তি বের হয়ে আসে। ছড়িয়ে পড়তে থাকে দূর থেকে দূরান্তরে। কোটি কোটি বছর লাগিয়ে তৈরি হয় গোলাকার গ্রহ উপগ্রহ। আমাদের পৃথিবী মিল্কিওয়ে নামক সৌরজগতে অবস্থান করছে। এই মহাবিশ্ব সম্প্রসারমান বলতে মূলত বোঝানো হয় মহাবিশ্বের অবস্থানরত সকল গ্রহ উপগ্রহ, সৌরজগত, ব্ল্যাকহোল সবকিছু ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যাচ্ছে। এরমানে কিন্তু আবার এই নয় যে পৃথিবী সূর্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মিল্কিওয়ে এবং এরকম অন্যান্য সৌরজগতের গ্রহ উপগ্রহগুলো গ্র্যাভিটির কারণে একে অপরের থেকে সমান দূরত্ব বজায় রাখে। আপাতদৃষ্টিতে গোটা মিল্কিওয়ে অথবা গোটা অ্যান্ড্রোমেডা (আমাদের পার্শ্ববর্তী সোলার সিস্টেম) সম্প্রসারিত হচ্ছে।

মুমিন ভাই এবার থামলেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন বুঝতে সমস্যা হচ্ছে কিনা। আমি বললাম বোঝার চেষ্টা করছি তবে অনেক প্রশ্ন মাথায় আসছে। মুমিন ভাই হাসলেন।

আমি: ইউনিভার্স এবং স্পেস কি একই জিনিস? নাকি ইউনিভার্স বলতে এর ভেতর অবস্থানরত সকল কিছুকেই বোঝানো হয়?
মুমিন ভাই: শতবর্ষ আগেও বিজ্ঞানীরা ঠিক এটাই মনে করতেন যে ইউনিভার্স হচ্ছে গোটা মহাবিশ্বের সকল বস্তু। তখন তারা স্পেস কে ভাবতেন মহাশূন্য যেখানে ওই সকল বস্তু অবস্থান করে। কিন্তু পুরো বিষয়টা এখন উল্টো। বিজ্ঞানীরা জেনেছেন স্পেস কোন শূন্যতা নয়। আইনস্টাইন প্রমাণ করেছেন স্পেসেরও কাঠামো আছে। মজার ব্যপার স্পেস তার কাঠামো অনুযায়ী নমনীয় এবং সম্প্রসারণযোগ্য। অর্থাৎ ওই যে বলেছিলাম মিল্কিওয়ে প্রসারিত হচ্ছে না, প্রসারিত হচ্ছে তার চারপাশের স্পেস। আরও অবাক করার মত বিষয় হচ্ছে এই স্পেসের নিজস্ব শক্তি রয়েছে (খুব অল্প পরিমানে) এবং সেই হিসেবে এর ভরও রয়েছে। স্পেসের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আজও গবেষণা চলছে এবং নিত্যনতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে।

আমি: ইউনিভার্স যদি একটা বিন্দু থেকে বিষ্ফোরণের ফলে তৈরি হয় এবং প্রসারিত হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চই এর একটি সীমানা রয়েছে?
মুমিন ভাই: প্রথমে বুঝতে হবে বিগব্যাঙ স্পেসে সংঘটিত হয়নি। বিগব্যাঙের পূর্বমূহুর্তে স্পেস বলতে কিছু ছিল না। ইউনিভার্স স্পেস টাইম সবকিছুই ছিল সেই বিন্দুটিতে। এবং মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের কোন কেন্দ্রবিন্দু নেই। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বলছেন এই মহাবিশ্ব অতিমাত্রায় ঘনীভূত অবস্থায় ছিল এবং এর মানে কিন্তু এই নয় যে সেই ঘনীভূত অবস্থাটি অতিমাত্রায় ক্ষুদ্র হতে হবে। যেটাকে আমরা সিঙ্গুলারিটি বলছি। এবং এই বিগব্যাঙ যে মাত্র একটা বিন্দু থেকে হয়েছে সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। ঘনীভূত একাধিক বিন্দু থেকে মহাবিশ্বের উৎপত্তি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

আমি: বিগব্যাঙের আগে কী ছিল তাহলে?
মুমিন ভাই: সিঙ্গুলারিটি। তোমার প্রশ্নে “আগে” শব্দটা আছে যা কোনো নির্দিষ্ট সময়কে বোঝায়। কিন্তু তখন সময় বলতে কিছু ছিল না। বিগব্যাঙের থেকে সময়ের শুরু। এর আগে ছিল শূন্যতা। “Nothingness”
আমি: জ্বী আচ্ছা। (মাথা খারাপ হবার উপক্রম আমার)

কথার মাঝে পরপর দুটো সিগারেট টানলেন মুমিন ভাই। তিনি আরও বলতে চাচ্ছিলেন তবে আমার কাজের শিডিউল থাকায় সেদিনের লেকচার সেখানেই সমাপ্ত হল।


অন্যান্য পোস্ট