RobinsHQ is Now Bangla Vibes. CLICK to SUBSCRIBE

ডিজিটাল ফিকশন – ২০২১ সাল

বেশ কয়েক বছর আগে (২০১১ সালে) লেখা একটি ছোট্ট সায়েন্স ফিকশন। অবশ্য সায়েন্সের থেকে ফিকশনই বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার ৩য় বারের মত মনে পরে যাচ্ছে সে দিনগুলোর কথা। প্রথম প্রকাশিত হয় আমার নিজস্ব ব্লগে ২০১১ সালে, তারপর ২য় প্রকাশ প্রিয়.কমে ২০১৪ সালে। এবার প্রকাশিত হচ্ছে স্বপ্নের বাংলায় ৩য় বারের মত।

একটা ফ্লাইং সসার (UFO) শুন্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ভেতরে দু’ জন ভিন গ্রহের প্রানী। একজনের নাম এনফে অন্যজন রিফ। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে তারা ঘুরে বেড়ায় নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানে। ঘুরপাক খাচ্ছে যেই সারফেস এর উপর সেটি পৃথিবীর জনবহুল একটি অঞ্চল। তারা অবাক হল উপর থেকে কোন জন মানুষ এর চিহ্ন দেখতে না পেরে। আজ থেকে ১০ বছর আগে তারা এখানটায় এসেছিল এবং ধরতে গেলে অঞ্চলটি ছিল একধরনের জন সমুদ্র। আজ ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাতারাতি সব বদলে গেল কিভাবে? কৌতুহল মেটাতে না পেরে তারা ঠিক করল সারফেস এ ল্যান্ড করার।

সবুজ গাছপালাতে ভরপুর এই অঞ্চল কে বাংলাদেশ বলা হয়ে থাকে। অনেক সুন্দর দেশটি। ১০ বছর আগে যা ছিল তার থেকে এখন আরও বেশী সবুজে ঘেরা বলা যায়। কিন্তু কোন মানুষ দেখা যাচ্ছে না কেন? এনফে এবং রিফ হন্যে হয়ে খুজতে থাকে। ওরা ট্রান্সপারেন্ট পোষাক পরিধান করে আছে যাতে কোন মানুষ হটাত তাদের দেখে ভড়কে না যায়। প্রায় ২ ঘন্টা ধরে খুঁজে কিছুই পেল না তারা। মানুষ ছাড়া সব প্রানী ওরা দেখতে পেয়েছে বরং আগের চেয়ে অধিক পরিমানে কিন্তু মানুষ লাপাত্তা। আরও কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাত কিছু কঙ্কাল দেখতে পেল মাটিতে প্রায় মিশে যায় যায় অবস্থা। এনফে চমকে উঠল। রিফ বলল, মনে হয় বুঝতে পারছি কি ঘটেছে এখানে। এনফেও বুঝতে পারল। বড় ধরনের কোন ধ্বংসলীলা ঘটেছে যাতে সব মানুষ মারা গিয়েছে। কিন্তু অন্য প্রানীরা কিভাবে সারভাইভ করল? ওরা মিলাতে পারল না। কিছু কংকাল পরীক্ষা করার জন্য ওরা সংগ্রহ করল এবং ফ্লাইং সসার এ করে তাদের নিজস্ব গ্রহে ফিরে গেল।

পরিশেষঃ ২০১১ সাল এ বাংলাদেশের সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করার নামে নানা ধরনের উদ্ভট কার্যকলাপ চালিয়ে যায়। যেমনঃ মন্ত্রী দেশের জনগন কে কম খাওয়ার পরামর্শ দেন। জনগন কম খাওয়া শুরু করার পর কোনো ধরনের পরিবর্তন দেশে হয় না শুধু মানুষ গুলোর স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পরে। যেহেতু দেশের কোন পরিবর্তন হয় নি অর্থাৎ খাদ্যাভাব লেগেই ছিল তাই মন্ত্রী আরও কম খাওয়ার পরামর্শ দেন এবং জনসংখ্যা যাতে না বৃদ্ধি না পায় তাই সবাইকে বিয়ে না করার পরামর্শ দেন, অথবা যদি কেউ বিয়ে করেও তাহলে যেন কোন সন্তান না নেন। অন্যদিকে মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে যোগাযোগ মন্ত্রী জনগন কে সব যায়গায় হেটে চলার পরামর্শ দেন যাতে করে রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম না লেগে যায় এবং কোন দূর্ঘটনা না ঘটে। তো মানুষ আর কত পারবে? অকালেই না খেতে পেয়ে স্বাস্থ্য ভেঙ্গে মারা যেতে থাকল মানুষ। অনেকে দেশ ছেড়ে অন্যদেশে পাড়ি জমাল। দেশে মানুষ এত কম খাচ্ছে , জনসংখ্যা এত কমে গিয়েছে তার পরেও দেশে খাদ্যাভাব লেগেই থাকল। আস্তে আস্তে দেশে দূর্ভিক্ষ্য দেখা দিল। মানুষ খুব দ্রুত মারা যেতে লাগল। মানুষের এই কষ্ট দেখে মন্ত্রীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারল, তারা প্রধান মন্ত্রীর কাছে গেল ক্ষমা চাইতে। প্রধান মন্ত্রী তাদের কে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। রাষ্ট্রপতি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না, মন্ত্রীদের মনের অবস্থা দেখে উনি কেঁদে ফেললেন এবং ক্ষমা করে দিলেন। পরবর্তিতে সরকার এর মন্ত্রী মহদয়গন পাশের দেশে পাড়ি জমান। প্রধান মন্ত্রী পাশের দেশ থেকে মানুষ আমদানী করার সিদ্ধ্বান্ত নেন। তখন ২০২১ সাল। ডিজিটাল বাংলাদেশ এর স্বর্নযুগ(!)

বর্তমানঃ খুব সহজ কথায় বলি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে সবার আগে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ইন্টারনেট সহজলভ্য করার পাশাপাশি এর গতি বাড়াতে হবে। কম্পিউটার যে শুধু গেম খেলা, মুভি দেখা, গান শোনার বস্তু নয় সেটা অনুধাবন করতে হবে। সফটওয়্যার/ওয়েব ডেভেলপার এবং নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের মূল্যায়ন দিতে হবে, বাড়াতে হবে কর্মসংস্থান। সরকার মহলে এমন কিছু লোক নিয়োগ দিতে হবে যারা সত্যিকার অর্থে কথায় নয় কাজে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ইচ্ছুক। আইসিটি সেক্টরে কোন প্রকার দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। নিজে শিখে অন্যকে শেখানোর মনোভাব থাকতে হবে। “আরেকজন আমাকে শিখিয়ে দিবে” এ জাতীয় পরনির্ভরশীলতা পরিহার করতে হবে (গুগল সার্চ কাজে লাগান)। টেক গিক দের নিজেদের মধ্যে মারামারি ও ঝগড়াঝাটি/মনোমালিন্য পরিহার করতে হবে। শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান কাম্য। ধন্যবাদ।

উপরের “বর্তমান” অংশটি ছিল ২০১১ সালের। আজ বর্তমান সময়ে এসে আমরা কতটুকু পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি? কিছু পজিটিভ পরিবর্তন অবশ্যই হয়েছে। পাঠকের কাছে অনুরোধ রইল বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য।


অন্যান্য পোস্ট