RobinsHQ is Now Bangla Vibes. CLICK to SUBSCRIBE

(VIDEO) এক: মুমিন ভাইয়ের পরিচয়

১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে এক মহা বিস্ফোরণ থেকে তৈরি হওয়া এই ইউনিভার্স প্রতিমুহূর্তে সম্প্রসারিত হচ্ছে। মহাবিশ্বের কোনো সীমানা নেই। আমাদের সৌরজগত “মিল্কিওয়ে” ছাড়াও রয়েছে অগণিত সৌরজগত। এখন পর্যন্ত প্রায় আঠারশটির বেশি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। কোথাও প্রাণের অস্তিত্বের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তবে কি আমাদের পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে ?

ইউনিভার্স দেখতে খুব সুন্দর। বিভিন্ন রঙ ও আলোর সমারোহে আকর্ষণীয় দেখতে। তবে একই সাথে অত্যন্ত বিপদজনক জায়গা এই ইউনিভার্স। সৌর ঝড়, উল্কা বৃষ্টি সহ নানারকম বিপদজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। ধ্বংস হচ্ছে গ্রহ উপগ্রহ। কিন্তু পৃথিবীতে কিছু এসে পড়ছে না কেন? লক্ষ লক্ষ বছর যাবত টিকে আছে আমাদের পৃথিবী। আমরা কি সৌভাগ্যবান? আমরা নই, আমাদের পৃথিবী একটি জোরকপালে গ্রহ। এখানেই শুধু প্রাণের বিকাশ।

এবার ভাবুন, এই ভাগ্যবান গ্রহে আপনি আমি কতটুকু ভাগ্যবান? অথবা আরেকটি কথা ভাবতে পারেন: “জোর যার মুল্লুক তার”। প্রায় ৭ বিলিয়ন মানুষ এই পৃথিবীতে। এদের মধ্যে কতজন মানুষ মহাবিশ্ব নিয়ে চিন্তা করে সময় কাটিয়েছে? হানাহানি মারামারিতে লিপ্ত কিছু নির্বোধ মানুষ যদি একবার অনুধাবন করত এই পৃথিবীই সবকিছু নয়, তাহলে আমরা হয়তো আঠারশর জায়গায় তিনহাজার গ্রহের সন্ধান পেতাম। হয়ত দু’একটা গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের নিশ্চিত প্রমাণ পেতাম। শক্তি ও মেধার কত বড় অপচয়! সেই সাথে মূল্যবান সময়ের অপচয় তো আছেই।

এমন একটা পৃথিবী কি আমরা তৈরি করতে পারি যেখানে কেউ কারো ক্ষতি করবে না, সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যাস্ত থাকবে এবং অন্যের কাজে বাধা দিবে না বরং সুযোগ হলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে? সবকিছুর সাথে সবকিছু সম্পর্কযুক্ত। শুধু এই পৃথিবী নয় গোটা ইউনিভার্সের ডিজাইনটাই এমন। শক্তির নিত্যতা সূত্রটি নিশ্চই জানেন? সবকিছুই রূপান্তর হয়, নতুন করে কিছু তৈরি হয় না। সৃষ্টির শুরুতে যা ছিল এখনও তাই আছে।

কথাগুলো টাইপ করছিলেন আর পান চিবুচ্ছিলেন মুমিন ভাই। আগামীকাল সকালের মধ্যে প্রিন্ট মিডিয়াতে পাঠাতে হবে একটি লেখা। এখন রাত প্রায় দুটা বাজে। মুমিন ভাইয়ের চোখে ঘুম নেই তবে অবসাদের ছোঁয়া স্পষ্ট। চেয়ার থেকে উঠে পানি খেতে ডাইনিং এ গেলেন তিনি। সাথে করে একটি পানির বোতল নিয়ে নিজ রুমে ফিরে এলেন। চেয়ারে বসে কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকালেন, একটি দীর্ঘশ্বাস। কীবোর্ডে CTRL+A চাপলেন। এবার ব্যাকস্পেস চেপে একটি সিগারেট ধরালেন।

মুমিন ভাইয়ের পরিচয়

আমি মুমিন ভাইকে ব্যাক্তিগতভাবে চিনি ৫ বছর হতে চলেছে। তার সাথে যে খুব বেশি উঠাবসা তেমনটা কিন্তু নয়। তিনি থাকেন তার নিজস্ব জগতে। একটা সাধারণ মানুষের চিন্তা চেতনা থেকে অনেকটাই আলাদা তার ভাবনাগুলো। সমাজে তিনি প্রযুক্তিবিদ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। ছোটখাট একটা অনলাইন মিডিয়াও রয়েছে তার। লেখালেখি করেন অনেক আগে থেকেই, হয়ত সেই সুবাদেই একটি অনলাইন মিডিয়া তৈরি করে নিয়েছেন। প্রিন্ট মিডিয়াগুলো হরহামেশা তার কাছ থেকে লেখা উদ্ধারের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। তিনি সচরাচর কাউকেই নিরাশ করেন না। সবাইকে তার নিজস্ব জগতের ছোঁয়া দিতেই হয়ত তিনি মন উজার করে লিখেন।

তার একটা অদ্ভুত স্বভাব রয়েছে। প্রায়শই দেখা যায়, যখন তিনি কোনো লেখার কাজে মনোনিবেশ করেন তখন ভাবনার তালে তালে জাবড় কাটেন। বেশিরভাগ সময় জাবড় কাটার বস্তুটা হয় পান ও সাথে সুপারি। পান যদি না পাওয়া যায় তাহলে মিন্ট ফ্লেভারের চুইংগাম মুখে পুরে লিখতে বসেন। তিনি কফি খুব পছন্দ করেন। তবে লেখার সময় কফি আর পান অথবা কফি আর চুইংগাম একসাথে যায় না বিধায় যে কোনো একটাকে বেছে নেন। বেশিরভাগ সময়ই সেটা চুইংগাম। তার মতে, ক্রমাগত জাবড় কাটা মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং কঠিন বিষয়ে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে।

মুমিন ভাইয়ের পুরো নাম “মুমিন বন্দ্যোপাধ্যায়”। নাম টা আমার কাছে একটু আজব লেগেছিল বটে তবে আমি কখনও তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিনি। আমি তার অন্যান্য কলিগদের দেখেছি “মুমিন’দা” বলে ডাকতে। আমি “মুমিন ভাই” ই ডাকি। ধর্মকর্ম তাকে কখনও করতে দেখিনি, এ বিষয়ে কোনো কথাও বলতে শুনিনি। তিনি বিয়ে করেননি, বয়স চল্লিশের উপরে হবে।

প্রায়শই তিনি দেশের বাইরে যান বিজ্ঞান বিষয়ক কনফারেন্সে যোগ দিতে। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি সাধারন ও হাশিখুশি একজন মানুষ। মুমিন ভাইকে আমি বড় ভাইয়ের মত শ্রদ্ধা করি। তার কাছ থেকে উৎসাহীত হয়ে খুবই সাধারণ জিনিসগুলো ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছি এবং অবাক হয়েছি। হচ্ছি।


অন্যান্য পোস্ট