RobinsHQ is Now Bangla Vibes. CLICK to SUBSCRIBE

(VIDEO) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র যেতে যে সকল ফর্ম পূরণ করতে হবে | US ফ্যামিলি ভিসা এবং অন্যান্য

যুক্তরাষ্ট্রে আপনি বিভিন্ন কারনে যেতে চাইতে পারেন। তবে সবচেয়ে বেশি যে তিনটি কারনে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমরা পাড়ি জমাই তা হচ্ছে: ১। বিজনেস এবং ট্যুরিজম, ২। অভিবাসন অথবা পারমানেন্ট রেসিডেন্সি, এবং ৩। পড়াশোনা।

যে কোনো ধরনের ভিসার জন্য আপনাকে সবার প্রথমে এক বা একাধিক ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য যে সকল ফর্ম পূরণ করতে হবে তা বলবো।

১। বিজনেস ও ট্যুরিজম:
প্রায় সকল বিজনেস ও ট্যুরিজম ভিসাকে বি-১ এবং বি-২ / B-1 and B-2 ভিসা বলা হয়ে থাকে। বি-১ ভিসা তাদের জন্য যারা শুধু বিজনেস সম্পর্কিত কাজে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমন করবেন। অন্যদিকে বি-২ ভিসা হচ্ছে ট্যুরিস্ট অথবা যারা আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করতে যাবেন তাদের জন্য। যারা মেডিকেল ট্রিটমেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাবেন তাদেরকেও একই ক্যাটাগরি ভিসা ব্যবহার করতে হবে।

B-1 and B-2 ভিসার জন্য আপনাকে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করতে হবে। যে ফর্মটি পূরণ করতে হবে তার নাম: DS-160.

ফর্মটি পাবেন এখানে: https://ceac.state.gov/genniv/
এই ভিসার ব্যপারে বিশদ জানতে: https://www.usa.gov/visas

২। অভিবাসন অথবা পারমানেন্ট রেসিডেন্সি:
অভিবাসনের জন্য সকল তথ্য এবং ভিসা আপনি পাবেন USCIS এর ওয়েব সাইটে। এই বিষয়ের জন্য বেশ কয়েকটি ফর্ম রয়েছে। আপনারা আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো পূরণ করে ব্যবহার করবেন। নিচে ফর্মগুলোর নাম, লিঙ্ক এবং কী কাজে ব্যবহার করবেন তা বলে দিচ্ছি:

I-130
এটা সবচেয়ে জনপ্রিয় ফর্ম। এই ফর্মের মাধ্যমেই আপনাকে গ্রিন কার্ড পেতে হবে। আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক (সিটিজেন) হয়ে থাকেন তাহলে আপনি এই ফর্ম ব্যবহার করে আপনার বাবা, মা অথবা ভাই ও বোন কে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্বামী অথবা স্ত্রীর জন্য আবেদন করতে হলে  I-130(A) ফর্মটিও পূরণ করে সাবমিট করতে হবে।

মনে রাখবেন এক জনের জন্য একটি ফর্ম। অর্থাৎ, আপনার বাবার জন্য একটি ফর্ম, মা'র জন্য একটি ফর্ম ইত্যাদি। এবং প্রতিটি ফর্মের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

আপনি যার জন্য আবেদন করবেন তার অবশ্যই সকল নাগরিকত্বের ডকুমেন্ট থাকতে হবে। সুতরাং বাংলাদেশে যিনি অবস্থান করছেন তার নির্ভুল জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট এবং বার্থ সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক।

ফর্ম পূরণ করে আপনাকে প্রায় এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে প্রাথমিক রেসপন্সের জন্য। আপনাকে তখন বলে দেয়া হবে আপনার আবেদন গ্রহনযোগ্য হয়েছে কি না। যদি গ্রহনযোগ্য হয় তাহলে শুরু হয়ে যাবে আরও একটি অপেক্ষার পালা। এই অপেক্ষার পরেই আপনি যার জন্য আবেদন করেছেন তাকে বাংলাদেশের ভিসা এম্বেসীতে ইন্টারভিউ'র জন্য ডাকা হবে। ইন্টারভিউ ঠিকঠাক মত হলে আপনার কাছে গ্রিন কার্ড চলে আসবে। সব মিলিয়ে সময় লাগতে পারে ১২ মাস থেকে ৪৮ মাস পর্যন্ত। স্পাউস অর্থাৎ স্বামী/স্ত্রী'র ভিসা দ্রুত হয়ে থাকে।

আরও একটি তথ্য দেই যেটা হয়ত আপনারা নাও জেনে থাকতে পারেন। আপনি যুক্তরাষ্টের নাগরিক হলে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরিস্ট অথবা নন-ইমিগ্রেন্ট হিসেবে আপনার বাবা, মা অথবা স্বামী/স্ত্রী থাকলে আপনি তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসেই এই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সময় লাগবে মাত্র ৪ থেকে ৬ মাস (টেম্পোরারি গ্রিন কার্ড) এবং পারমানেন্ট রেসিডেন্ট অথবা গ্রিন কার্ড হাতে পেতে সময় লাগবে ২ বছর।

I-485
হ্যা যা বলছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অবস্থানকারী নন-ইমিগ্রেন্ট চাইলে গ্রিন কার্ড পেতে পারেন। এর জন্য আপনাকে (ধরে নিচ্ছি আপনি নন-ইমিগ্রেন্ট) I-485 ফর্ম পূরণ করতে হবে যা হচ্ছে মূলত স্ট্যাটাস পরিবর্তন করার আবেদন। এই আবেদন আপনাকে করতে হবে এবং সেই সাথে আপনার বাবা, মা অথবা স্বামী/স্ত্রী যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক (সিটিজেন) তাকে পূরণ করতে হবে
I-130 ফর্মটি।

তবে এই আবেদন নাকচ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই হুট করে আবেদন করে বসবেন না। সময় নিয়ে রিসার্চ করে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

৩। পড়াশোনা অথবা স্টুডেন্ট ভিসা:
এই ভিসার অপর নাম এফ-১ অথবা F-1 Student Visa. আপনি পড়তে যেতে চাইলে প্রথম কাজ হবে কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা এবং অ্যাপ্লাই করা। তারপর অপেক্ষা করতে হবে তাদের অনুমোদনের জন্য। Approve হয়ে গেলে ওরা আপনাকে একটি ফর্ম পাঠাবে যার নাম I-20.

তারপর আপনাকে DS-160 ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং ভিসা ইন্টারভিউতে সেই I-20 ফর্মটি (অরিজিনাল) এবং DS-160 ফর্মের সাবমিশন কনফারমেশন পেজটি প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে।

এই ভিসা পেতে বেশি সময় লাগে না। অবশ্যই সতর্কতার সাথে ফর্ম পূরণ করবেন নাহলে ভবিষ্যতে ঝামেলা হতে পারে এবং ভিসা পেতে দেরী তো হবেই।

আরও একটা ক্যাটাগরী রয়েছে যেটা হচ্ছে ওয়ার্ক ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট (H-1B Visa)। এর জন্য আপনাকে যিনি অথবা যে কোম্পানী কাজ দিবে সে অথবা তারা I-129 ফর্ম পূরণ করে USCIS এ আবেদন জানাবে। এই ভিসা পাওয়া কঠিন এবং এই ভিসা পাওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে আপনাকে ওয়ান-অফ-এ-কাইন্ড কেউ হতে হবে। অর্থাৎ Super Skilled কেউ একজন। অন্যথায় আমেরিকায় আপনাকে নিয়ে কাজ দেয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

 

ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য। আশা করছি একটু হলেও উপকৃত হয়েছেন। ইউ এস ভিসা সম্পর্কিত বিস্তারিত জানার জন্য ইউএসসিআইএস এর ওয়েবসাইট অবশ্যই দেখবেন। কোনো দালালের খপ্পরে পড়বেন না যেন! আপনার সকল প্রশ্ন নিচের ভিডিও পেইজে করতে পারেন।

 


অন্যান্য পোস্ট